• ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

একদিনে ৩০ জনের বেশি রোগী দেখবেন না বলে ঘোষণা দিলেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট

admin
প্রকাশিত মে ১, ২০২৫
একদিনে ৩০ জনের বেশি রোগী দেখবেন না বলে ঘোষণা দিলেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট

Sharing is caring!

একদিনে ৩০ জনের বেশি রোগী দেখবেন না বলে ঘোষণা দিলেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ অনুজ কান্তি দাশ। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। রোগী আসলে দেখতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে সার্জারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ৪টি পদের বিপরীতে একমাত্র ডাঃ অনুজ দাশ দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ৩টি পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালে রোগী সাবার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিদর্শনে এসেও এ নিয়ে কথা বলেন। তারপরও সম্প্রতি হাসপাতালের ২১৪ নম্বর কক্ষে ডাঃ অনুজ দাশের চেম্বারের দরজায় “৩০ (ত্রিশ) জনের বেশি রোগী দেখা হয় না” লিখে রাখতে দেখা যায়। এ ঘটনা হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকে আবার ভোগান্তিতে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৬ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেয়। এর বড় একটি অংশকে সার্জারী বিভাগে রেফার হচ্ছে।

আরেক ভোক্তভূগী মনোহর মিয়া বলেন, আমি সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে দিনের পর দিন গিয়েও চিকিৎসা করাতে পারেনি। ৩০ জনের বেশি রোগী না দেখায় এ সমস্যায় পড়তে হয়েছে আমাকে।

আব্দুর রউফ নামে এক ভোক্তভূগী বলেন, এতগুলো রোগীর মধ্য থেকে একমাত্র সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যদি ৩০ জনের বেশি রোগী না দেখায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দিনের পর দিন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে যেতে হয় প্রাইভেট হাসপাতালে।

সচেতন মহল মনে করছেন, একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ৩০ জনের বেশি রোগী দেখেন না তাও আবার সেটি তার কক্ষের চেম্বারের দরজায় লেখা যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডাঃ অনুজ কান্তি দাশ বলেন, ‘আমি সার্জারি ওয়ার্ড এবং অপারেশন থিয়েটারে একা কাজ করি। নিয়মিত অস্ত্রোপচার করতে হয়। এ অবস্থায় বহির্বিভাগে রোগী দেখার সুযোগ পাওয়া যায় না। তারপরও পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্তত ৩০ জন রোগী হলেও দেখতে চাই। তাই দরজায় লেখাটা লাগিয়েছি।

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত যে ক’জন রোগী আসেন আমাদের দেখতে হবে। রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ডাঃ অনুজের বিষয়টি জেনে ঊর্ধ্বতন স্যার আমাকে কল দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

১৬০ পড়েছেন