• ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

সামরিক সংঘাতের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে

admin
প্রকাশিত মার্চ ৬, ২০২৬
সামরিক সংঘাতের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে

Sharing is caring!

সামরিক সংঘাতের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ওয়াশিংটনের কোষাগার থেকে প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।শুক্রবার (৬ মার্চ) যুদ্ধটি সপ্তম দিনে পদার্পণ করার পর এক গবেষণায় এই বিশাল ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শক্তিশালি সামরিক বাহিনীর মোকাবিলায় অত্যাধুনিক স্টেলথ বোমারু বিমান এবং অত্যন্ত দামি স্মার্ট ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের কারণেই যুদ্ধের খরচ মাত্র কয়েক দিনেই আকাশচুম্বী হয়েছে।ওয়াশিংটনভিত্তিক বিখ্যাত থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) তাদের এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, বর্তমানে আমেরিকা এই যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করছে।গবেষক মার্ক কানসিয়ান এবং ক্রিস পার্ক এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানান, প্রথম ১০০ ঘণ্টার এই বিপুল ব্যয়ের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশ আগে থেকে বাজেটে বরাদ্দ ছিল। বাকি ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারই ছিল সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত বা ‘অবাজেটভুক্ত’।বিশ্লেষকদের মতে, ইরান একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ধ্বংস করতে অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হচ্ছে। একেকটি টমাহক মিসাইল কিংবা বাঙ্কার-বাস্টার বোমার আকাশছোঁয়া দাম মুহূর্তেই যুদ্ধের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে পেন্টাগন যে পরিমাণ গোলাবরুদ ব্যবহার করছে, তা তাদের মজুদ ভাণ্ডারের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে সরাসরি স্থল অভিযানের পরিবর্তে বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় এই কারিগরি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।সিএসআইএস-এর গবেষকরা আরও বলেন, এই ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগনকে খুব শীঘ্রই মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত তহবিলের জন্য জরুরি আবেদন করতে হবে।যদি এই গতিতে ব্যয় চলতে থাকে, তবে এক মাস শেষ হওয়ার আগেই ওয়াশিংটনকে প্রতিরক্ষা বাজেটের বাইরে আরও শত কোটি ডলারের সংস্থান করতে হবে। এটি মার্কিন অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।যুদ্ধের এই ভয়াবহ খরচের চিত্র সামনে আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে যুদ্ধবিরোধী পক্ষগুলো এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনকল্যাণে ব্যয় না করে যুদ্ধে নষ্ট করার তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। সিএসআইএস বলছে, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকেই যাচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে

১৩ পড়েছেন