• ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে অবৈধ অস্ত্র

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬
সিলেটর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে অবৈধ অস্ত্র

Sharing is caring!

আব্দুল হালিম সাগর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করতে পারবেন। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করার ক্ষেত্রে প্রচারণা পর্বটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি ও সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাটাই নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি ও অপপ্রচার, মব সহিংসতা, লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এমনিতেই জননিরাপত্তায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা নানা সময়ে সতর্ক করে আসছিলেন, অবৈধ অস্ত্র ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে নির্বাচনের পরিবেশের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে সীমান্তে অবৈধ পারাপার, জাল টাকার কারবার ও অস্ত্র চোরাচালানও নির্বাচন কেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিষয় গুলো নিয়ে সরকারের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সীমান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরপর দেশের সীমান্তবর্তী ২৭ জেলার পুলিশকে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজিবিকেও সতর্ক থাকার কথা বলা হয়। সাধারণ পুলিশ ও বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়াটাই যথেষ্ট নয়, যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পুলিশের তালিকায় ২৭ জেলায় ৭৮৭ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যাঁরা নিয়মিত ভাবে টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেন। লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিদের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দুর্গম পথ, নদী ও চর এবং পাহাড়ি ট্রেইল সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আছে। সীমান্তে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই নজরদারি ও আইনের আওতায় আনা জরুরী। দেশের বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যাকাণ্ড গুলো পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অবৈধ অস্ত্র জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সুযোগে থানা, ফাঁড়ি, কারাগার থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুটপাট হয়। কারাগার থেকে অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী বেরিয়ে যায়। লুট যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটা অংশ সন্ত্রাসীদের কাছে গেছে বলেই আশঙ্কা করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। এর সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি ঢুকেছে, গত কয়েক মাসে সিলেট, কুষ্টিয়া, কুমিল্লাসহ কয়েকটি জায়গায় অস্ত্র উদ্ধারই তার বড় প্রমাণ। আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন পথে দেশে অপ্রচলিত অস্ত্র এসেছে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে অবৈধ অস্ত্রের বড় ভূমিকা থাকলেও এখন পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাফল্য বলার মতো নয়। ভয়হীন ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের আর কোনো বিকল্প নেই। সুষ্ঠু নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য শুধু ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতই যথেষ্ট নয়, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণও জরুরি। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনোভাবেই অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করতে না পারে এবং অপরাধীরা যাতে অপরাধ করে সীমান্ত পেরিয়ে না যেতে পারে, তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি। বিশেষ করে সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর, কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রন্তায় অবৈধ অস্ত্র আসছে এমন সংবাদ গোয়েন্ধা সংস্থার কাছে ছিলো। এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিশেষ করে গত ১৯ জানুয়ারী সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে তল্লাশি চালিয়ে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু করিচের ব্রিজের উত্তর পাশে পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোরে ১টি রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল যোগে দু’জন লোক চেকপোষ্টের সামনে আসলে গাড়িটি থামানোর জন্য সংকেত প্রদান করে পুলিশ। এ সময় মোটরসাইকেলসহ ১টি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তা ফেলে আরোহীরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। বস্তা তল্লাশি করে ভারতীয় ৪টি ক্যামো রংয়ের নতুন এয়ারগান ও ৬টি কালো রংয়ের নতুন এয়ারগান এবং ১টি পুরাতন সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর আগে ১৮ জানুয়ারি রাত ১০টায় জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের পানিছড়া গ্রামে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব-৯ অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি পয়েন্ট-২২ রাইফেল উদ্ধার করে। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি বিকেলে র‌্যাব-৯ অভিযান চালিয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাং এলাকায় টিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে। উদ্বারকৃত বিস্ফোরক হলো, ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল এবং ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর। এর আগে সীমান্তবর্তী এলাকা গোয়াইনঘাটে অভিযান চালিয়ে রাইফেল তৈরির ২৫টি স্প্রিং উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। উপজেলার পান্তুমাই সীমান্তের আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি বাড়ির পেছন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব স্প্রিং উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ। সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় অস্ত্রের মজুদ রয়েছে এই খবরের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশ। এর আগে সিলেট সীমান্তে গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং চা বাগান সংলগ্ন এলাকা থেকে ৪টি এয়ারগান উদ্ধার করে বিজিবি। চোরাকারবারীরা অবৈধভাবে এয়ারগানগুলো বাংলাদেশ অভ্যন্তরে নিয়ে এসেছিল। তবে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট সীমান্ত আবারও পরিণত হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকির সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকায়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতীয় সীমান্তবর্তী অঞ্চল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের দিক থেকে সিলেট হয়ে দেশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢোকার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এর আগে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ছনবাড়ি সীমান্ত থেকে বিজিবি উদ্ধার করেছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক, দুটি ডেটোনেটর এবং একটি বিদেশি রিভলভার উদ্ধার করেছে বিজিবি।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর এবং সুনামগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সর্বাধুনিক রাইফেল, পিস্তল, রিভলভার এবং বিস্ফোরক উপকরণ দেশে অনুপ্রবেশ করছে। ভারতের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তৈরি ‘নিওজেল ৯০’ বিস্ফোরক ও ডেটোনেটর চোরাই পথে পাচার হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট একটি গোয়েন্দা ইউনিট। আটক হওয়া পাচারকারীদের জবানবন্দিতেও এসব তথ্য মিলেছে। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট সিলেট মহানগরের ছয়টি থানায় হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা যে ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজারের বেশি গুলি লুট করেছিল—তার একটি বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, সেই অস্ত্রগুলোর সঙ্গে নতুন করে চোরাইপথে ঢোকা অস্ত্র মিলে সশস্ত্র নাশকতার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে ,সিলেটের পাশাপাশি চাপাইনবাবগঞ্জ, যশোর ও কুমিল্লা সীমান্ত দিয়েও অস্ত্র ঢোকার চেষ্টা হচ্ছে। তবে সিলেট অঞ্চলই সবচেয়ে সক্রিয় ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথ। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে আশঙ্কা বাড়ছ, অস্ত্রের ছায়া কি থামানো যাবে, নাকি তা ভোটের মাঠে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে? এখন পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাই দাঁড়িয়ে আছে বড় পরীক্ষার সামনে। সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বিগত সরকারে শাসন আমল থেকে পুলিশ ও বিজিবিকে ম্যানেজ করে লাইনম্যানরা বাংলাদেশে ভারতীয় নানা রকম অবৈধ পন্যর পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আসছে। এমন সংবাদ বারবার গণমাধ্যমে প্রকাশ হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ে কোন গুরুত্বই দেয়নি। বিগত বছরের ৫আগষ্ট সরকারের পঠ পরিবর্তন হলে আইনশৃংখলা পরিস্তিতির নাজুকতার সুযোগ ব্যাপরোয়া হয়ে উঠে সীমান্তের চোরাকারবারিরা। তারা স্থানীয় থানা পুলিশ ও বিজিবিকে লাইনম্যানদের ম্যানেজ করে সীমান্তের চোরাচালান অব্যাহত রাখে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে এই দুই/ তিনিটি চালান আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ বিজিবি। আশ্চর্যজনক হলেও এসব চোরাই পথে নিয়ে আসা অবৈধ অস্ত্রের মালিক বা বহনকারিকে আটক করতে পারিনি পুলিশ বা বিজিবি। আর স্থানীয়রা বলছেন, এসব অস্ত্র বা চোরাচালানের সাথে কারা জড়িত পুলিশ ও বিজিব সব জানে। লাইনম্যানেদের সাথে টাকা নিয়ে ঝামেলা হলে পুলিশ ও বিজিবি খবর পায়। সেগুলো আটক বা উদ্ধার করে পাবলিক প্লেসে নিয়ে আসে বাহবাহ পেতে চায়। জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট সীমান্তের অস্ত্রের চালানের খবর জানতে পুলিশের ২৪ ঘন্টা সময়ই যতেষ্ট। কারণ এর আগেও মিডিয়াতে প্রকাশ হয়েছিলো
গোয়াইনঘাটের জাফলং সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসে উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, পুলিশের লাইনম্যান আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বারের হাত ধরে। তামাবিল স্থলবন্দর ৩নং গেইট, গুচ্ছ গ্ৰাম, লালমাটি,সাইনবোর্ড, আমতলা, সোনাটিলা, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আসা ভারতীয় চোরাচালানের সকল পণ্যসহ অস্ত্র-মাদকের লাইন নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। তিনি নিজেকে থানার ওসি উত্তর ডিবির ওসির নিজস্ব লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে থাকেন।

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দেওয়া বিদেশি অস্ত্র এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, বিগত বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সিলেটের সীমান্ত এলাকা থেকে ৫টি এয়ারগান, ২টি বিদেশি রিভলবার, ৬ রাউন্ড গুলি, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক এবং ২টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মিনাটিলা এলাকা থেকে ১টি এয়ারগান, ২৪ আগস্ট গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী জাফলং চা-বাগান সংলগ্ন এলাকার কাটারী নামক স্থান থেকে ৪টি এয়ারগান, ২৮ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী মাওলারপাড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকা থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ৩১ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী ছনবাড়ী বাজার এলাকা থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক এবং ২টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বিজিবি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। গত ১২ অক্টোবর জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) গুয়াবাড়ি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল জৈন্তাপুর উপজেলার দরবস্ত এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় দরবস্তের ভাইটগ্রাম নামক স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ভারতীয় এয়ারগান, চারটি রামদা ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
জৈন্তাপুর থানায় অস্ত্র আসে ব্যান্ডিজ করিম উরফে করিম আহমদ ও আব্দুলের মাধ্যমে। কারণ তিনজনকে পুলিশ আটক করলে আসল অপরাধী পেয়ে যাবে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে সীমান্ত দিয়ে আরো কয়েকটি বিরাট-বিরাট অস্ত্রের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সীমান্ত এলাকায় মজুদ করা হয়েছে। স্থানীয় এক চোরাকারবারির সাথে পরিচয় গোপন করে কথা বলে জানা যায়, গত তিন মাসে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে আসার আগেই বেশ কয়েকটি অস্ত্রের চালান আটক করেছে ভারতী বিএসএফ। আর কয়েকটি চালান সিলেট শহরে প্রবেশ করেছে। যা বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে গেছে। বিগত সরকারের আমলে সিলেট সীমান্তের জাফলং ও জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে বিগত সিলেট সিটি নির্বাচনের আগে ও পরে প্রায় ৮ টি অস্ত্রের চালান সিলেট নগরীতে প্রবেশ করে। বিশেষ করে সেই সময়ের চোরাই চিনির বুঙ্গাড়ীদের মাধ্যমে জাফলং সীমান্তের লাইনম্যান ইমরান হোসেন সুমন উরফে জামাই সুমন ও হরিপুর এলাকার পিচ্চি আবুল হোসেনের হাত ধরে এসব অস্ত্রের চালান দেশে আসে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে। কিন্তু কোন অস্ত্রই উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃংখলা বাহিনী।
জৈন্তাপুর উপজেলার যেসব পথ দিয়ে আসে চোরাই পণ্য: জৈন্তাপুর বাজারের চোরাচালানের গরু-মহিষসহ বিভিন্ন পণ্য আসে। সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় চোরাই পণ্য নিয়ে আসার ধুম। আর শেষ হয় ভোর রাতে। এ কারণে রাতে জেগে থাকে জৈন্তাপুর বাজার। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খাঁসি হাওর, মোকামপুঞ্জি, শ্রীপুর, মিনাটিলা, আদর্শগ্রাম, কেন্দ্রী দিয়ে সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসা গরু মহিষ শেওলারটুক হয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার মঞ্জিলতলা, কাকুনাখাই, পাঁচ সেউতী হাওর দিয়ে কুওর বাজার, কেন্দ্রী লম্বাটিলা, ডিবির হাওর, ঘিলাতৈল, টিপরাখলা, করিমটিলা, ভিরতগোল, বাইরাখেল, হর্ণি, মাঝেরবিল, সাইনবোর্ড হয়ে বিভিন্ন পথে আসা গরু-মহিষ আসে। লালাখাল হয়ে নিয়ে আসা গরু-মহিষ, মাদক, অস্ত্র দরবস্ত ও চতুল বাজারে প্রবেশ করে। বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন থেকে এসব পণ্য নিরাপদ রাখতে করিমই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। একমাত্র সীমান্তের বিজিবি অটল জোরদার, অতিরিক্ত গোয়েন্ধা নজরদারী আর থানা পুলিশের কিছু পুলিশ সদস্যর উপর নজরদারী করলেই চোরাচালানের মূলহুতাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

৪৫ পড়েছেন